ফেসবুকের যে যে দক্ষতা মার্কেটিংয়ের জন্য দরকার

ফেসবুক মার্কেটিং দক্ষতা থাকলে অনেকভাবেই ইনকাম করা যায়। কিন্তু ফেসবুক দক্ষত বলতে আমাদের কাছে পরিস্কার না। কি কি দক্ষতা থাকা দরকার, সেটি একটু সাজিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেছি।

  • ১) লিড সংগ্রহ: ফেসবুকে লাইক বৃদ্ধি করে ব্যবসার জন্য লাভ নাই। লিড বৃদ্ধি করতে হবে। ওজন কমানোর কোন ঔষধ বিক্রি করার জন্য পেজ খুলছেন। সে পেজে ১০,০০০ লাইক রয়েছে, যার মধ্যে ৯,৯৯৯ হচ্ছে চিকন মানুষের লাইক। তাহলে তাদের কাছে জীবনে ঔষধ বিক্রি করা যাবেনা। যারা মোটা এবং মোটা নিয়ে চিন্তিত তাদেরকেই আপনার পেজে নিয়ে আনা উচিত। এদেরকেই পেজে নিয়ে আনাকে লিড সংগ্রহ বলে।
  • ২) লিড পরিচযা: পেজে যখন লিড তৈরি হলো তাদের জন্য সচেতনতামূলক পোস্ট দিয়ে দিয়ে মোটা থেকে চিকন হওয়ার গুরুত্বমূলক, আতংক তৈরি মূলক পোস্ট তৈরি করতে হবে। এগুলো দেখে সেই পেজের মানুষজনের মধ্যে চিকন হওয়ার প্রোডাক্ট কিনার আগ্রহ তৈরি হবে। একেই বলে লিড নার্সিং বা লিড পরিচযা।
  • ৩) সেলস ফানেল: আমরা মার্কেটিং করার সময় সবসময় প্রোডাক্টি কেনা সম্পর্কিত পোস্টটাই দিয়ে থাকি। প্রোডাক্টের মূল্য, প্রোডাক্ট কেন ভাল এ টাইপ পোস্ট প্রতিনিয়ত দিয়ে থাকি। এটা করলে একটা পযায়ে সেল বন্ধ হয়ে যায় কিংবা সেল ভাল পাওয়া যায়না। কিন্তু দেখা যায় পরিশ্রম প্রচুর করা হচ্ছে। এটাকে সহজ একটা ব্যাখ্যা দিয়ে সেমিনারটিতে বুঝানোর চেষ্টা করেছি।
  • বাসা বাড়িতে পানির ট্যাংকি থাকে। ঘরের ভিতরে কল ছেড়ে রেখে দিয়েছেন। পানি পড়তে পড়তে একসময় ট্যাংকি খালি হয়ে যাবে। যেরকম কল ছেড়েছেন, সেরকম মোটর চালিয়ে নিয়মিত ট্যাংকিতেও পানি ভরতে হবে। মোটর চালিয়ে পানি উঠাবেন, এটাকে লিড সংগ্রহ বলে। ট্যাংকিতে পানি ভরেছে, সেটাকে লিড পরিচযা বলে। পরে কল ছেড়েছেন, সেটা হচ্ছে সেল শুরু হয়েছে।
  • ৪) কনটেন্ট ডেভেলপ: কনটেন্ট বলতে আর্টিকেল, কোন লিখার লিংক, গ্রাফিক, ভিডিও সবকিছুকে কনটেন্ট বলে। কনটেন্ট ডেভেলপের ক্ষেত্রে প্রোডাক্ট সেল করা বিষয়টি মাথাতে রেখেই পরিকল্পনা করতে হবে। লিড সংগ্রহ, লিড নার্সিং, সেলস ফানেল তৈরির চিন্তা করে কনটেন্ট ডেভেলপ করতে হবে।
  • ৫) সম্ভাব্য কাস্টমারের আচরণ বুঝা: সম্ভাব্য কাস্টমারের বয়স, সেক্স, তাদের কেনার ক্ষমতা, কেনার অভ্যাস, তাদের আচরণ বুঝতে হবে, সেই অনুযায়ি কনটেন্ট ডেভেলপ করতে হবে। সম্ভাব্য কাস্টমারদের ডাটা কালেক্ট করা এবং তাদের আচরণটা অ্যানালাইস করা জানতে হবে।
  • ৬) নিউজ ফিড অ্যালগরিদম: ফেসবুকে কার ওয়্যালে কোন পোস্ট দেখাবে এটা একটা অ্যালগারিদম মেইনটেইন করে চলে, যেটাকে EDGE Rank বলে। আর এ অ্যালগারিদমের কারনেই আপনারে ফ্রেন্ড লিস্টের সবার পোস্ট আপনি দেখেননা, আপনার পোস্টও সবাই দেখেনা। এটা না বুঝে মার্কেটিং করেন দেখেই কোন উপকার পাচ্ছেন না। আপনি ১০০গ্রুপে হয়ত মার্কেটিং করতেছেন, কিন্তু আসলে আপনার পোস্টকে ফেসবুক কারও ওয়্যালে শো করতেছেনা শুধুমাত্র এ অ্যালগরিদমটার কারনে।
  • ৭) সঠিক অডিয়েন্স টার্গেট করা: সঠিক অডিয়েন্স খুজে বের করে শুধুমাত্র তাদের কাছেই মার্কেটিং করেন। এ সঠিক অডিয়েন্স কারা সেটা বুঝার জন্য অনেক টুলস রয়েছে যার ব্যবহার না জেনে অন্ধের মত মার্কেটিং করলে সময়টাই নষ্ট হবে। ইনকাম আর হবেনা।
  • ৮) পেইড অ্যাডভার্টাইজিং: ফেসবুকে পেইড অ্যাডভার্টাইজিং চমৎকার একটা মার্কেটিং সলিউশন। কিন্তু দু:খের বিষয়, আমাদের দেশে মনে করে ১ডলার খরচ করে কত বেশি মানুষের কাছে যেতে পারলাম, তত বড় আমি মার্কেটার হয়ে গেছি। আসলে কত বেশি মানুষ পোস্টটা দেখলো, সেটাতে আপনার স্বার্থকতা না, কতজন আপনার প্রোডাক্টটি কিনলো, সেটাতে মার্কেটিংয়ে সফলতা। সেজন্য সঠিক পেইড মার্কেটিং শিখতে হবে।
  • ৯) রিমার্কেটিং টেকনিক: ফেসবুক পেইড মার্কেটিংয়ের মাধ্যমে কোন প্রোমোশন যদি একই ব্যক্তির কাছে বার বার নিয়ে আসতে পারেন, তাহলে প্রোডাক্টটি ব্রান্ড হিসেবে প্রতিষ্ঠা পাবে। এজন্য অডিয়েন্স ধরে রাখা, তাদের কাছে বার বার মার্কেটিং করে মেসেজ পৌছে দেওয়াটাই হচ্ছে রিমার্কেটিং।
  • ১০) ইনফ্লুয়েন্সার হওয়া: কোন বিষয়ে নিজেকে এক্সপার্ট হিসেবে অনলাইনে মানুষের ধারণা প্রতিষ্ঠা করতে পারাকে ইনফ্লুয়েন্সার বলে। ইনফ্লুয়েন্সার হলে মার্কেটিং করার কষ্ট কমে যায়। অল্প কষ্টে বেশি লাভ করা যায়। এ ইনফ্লুয়েন্সার হওয়ার টেকনিক জানা থাকতে হবে।
  • ১১) মাসিক মার্কেটিং রিপোর্ট পযবেক্ষণ: প্রতিটা মার্কেটিংয়ের প্রতিটা ফলাফল দেখার ব্যবস্থা রয়েছে ফেসবুকের কিছু টুলসে। সেগুলো অ্যানালাইস করতে না জেনে মার্কেটিং করলে কোন লাভ নাই। সেগুলো না জেনেই মার্কেটিং করলে অন্ধের মত সমুদ্রে হাতরানো হবে।
  • ১২) রিপোর্ট অনুযায়ি মার্কেটিং প্লান তৈরি: মাসিক রিপোর্ট অনুযায়ি পরবর্তী মাসের মার্কেটিং প্লানটা সাজাতে হয়। কোন ধরনের কনটেন্ট মানুষকে আকর্ষণ করতেছে, কোন সময়ে মানুষজন অনলাইনে বেশি থাকে সেগুলো জেনে মার্কেটিং করলে পরিশ্রম অনেক কমে যাবে, ইনকামটাও বাড়বে।
  • ১৩) কম্পিটিটরদের অ্যানালাইস করা: আপনার যারা কম্পিটিটর তাদের অ্যানালাইস না করে মার্কেটিংয়ে নামলে মার্কেটিং করেতো কোন লাভ হবেনা। হতাশাটাই শুধু পাবেন। কম্পিটিটরদের থেকে আইডিয়া নিয়ে তারপর আপনার মার্কেটিং প্লান তৈরি করুন।

Content Writer : MD Ekram

ক্ষুদ্র ব্যবসায় মার্কেটিং কিভাবে করবেন?

ছোট ব্যবসার মার্কেটিং টিপসঃ

১। কাঙ্ক্ষিত ক্রেতাঃ

প্রথমেই নির্ধারণ করতে হবে আপনি কাদের জন্য পণ্য/সেবা প্রদান করতে চান। কেনো মানুষ আপনার কাছ থেকে পণ্য/সেবা গ্রহণ করবে? মানুষের চাহিদা অনুযায়ী আপনাকে প্রচার করতে হবে। আপনি নিজেকে নিজে প্রশ্ন করুন যে আপনার ক্রেতা কি ধরনের হতে পারে -ধণী/গরীব, শিক্ষীত/অশিক্ষীত, যুবক/বৃদ্ধ, নারী/পুরুষ।
সে অনুসারে ব্যবসা প্রতিষ্ঠা করুন এবং তা প্রচার করুন। আপনি আপনার প্রচার কাজ যত ভালোভাবে করতে পরবেন ততো ভোক্তা/ক্রেতা পাওয়ার সম্ভাবনা থাকবে। প্রচার/বিজ্ঞাপন আমরা দুই ভাবে করতে পারি।

ক) ট্র্যাডিশনাল মার্কেটিংঃ টেলিভিশন, পত্রিকা, রেডিও ইত্যাদির মাধ্যমে বিজ্ঞাপণ প্রচার করে

খ) ডিজিটাল মার্কেটিংঃ কোম্পানীর ওয়েব সাইট তৈরী করে তা ইন্টারনেট এর মাধ্যমে এছাড়াও সোশ্যাল নেটওয়ার্ক/মিডিয়ার মাধ্যমে প্রচার করে আপনি ক্রেতাদের কাছে আপনার পন্যকে উপস্থাপন করতে পারেন।

২। পোস্ট ভিডিও অনলাইনঃ

অনলাইন ভিডিও ছোট ব্যবসার বিপনণের অনেক সমস্যার সমাধান করে দিয়েছে। বিদ্যমান সাইটের প্রথম পেজ এ একটি ভিডিও থাকলে গুগল সার্চ ইঞ্চিন সেটিকে ৩০ মিনিটের মধ্যে হিসাবে নিয়ে আসে এবং ১ দিনের মধ্যে সার্চের প্রথম পাতার উপরের দিকে স্থান করে দেয়। ভিডিওটি আপনি নিজেও বানাতে পারেন অথবা প্রফেশনাল কারো দ্বারা বানিয়ে নিতে পারেন।

৩। আপনার ওয়েব সাইটের পোস্ট গুলোর কেস স্ট্যাডি করুনঃ

আমারা ফোনের মাধ্যমে গ্রাহকদের রিভিউ নিতে পারি এবং সেটা টেমপ্লেট আকারে আমাদের সাইটে আপলোড করতে পারি। এটা ব্যপক আকারে হওয়ার প্রয়োজন নেই। Contain useful ছিল কিনা, নির্দিষ্ট করে গ্রাহকের কাছে জানতে চাওয়া যে আমাদের পন্য বা সেবা তার সমস্যার সমাধাণ করতে পেরেছে কিনা এবং সে আমাদের সেবা নিয়ে সন্তুষ্ট কিনা?

৪। ব্যবসার ধরণঃ

কিছু প্রচার/বিজ্ঞাপণ এমন হয় যে বুঝাই যায় না কোন জিনিস এর প্রচার/বিজ্ঞাপণ চলছে। তাই আপনি কোন ধরণের ব্যবসা /কোন পণ্যের জন্য প্রচার/ বিজ্ঞাপণ করছেন তা স্পস্ট করতে হবে।যাতে করে ক্রেতাগণ সহজেই বুঝতে পারে আপনি কি ম্যাসেজ তাদের দিতে চাচ্ছেন। যেমনঃ আপনার পণ্য যদি হয়ে থাকে মেয়েদের পোষাকের সে ক্ষেত্রে আপনি যদি ছেলে, মেয়ে, শিশু সবার পোষাকের বিজ্ঞাপন দেন তাহলে ক্রেতারা আপনার পণ্য সম্পর্ক একটি ভুল ধারনা পোষন করবে। তাই আপনার বিজ্ঞাপনের মধ্যে আপনার পণ্যটিকে এমন ভাবে তুলে ধরুন যাতে করে সবাই সহজেই বুঝতে পারে।

৫। আপনার ওয়েবসাইটকে সমৃদ্ধ করুন ভবিষ্যতের গ্রাহকদের জন্যঃ

আপনার কোন ব্লগ নেই? তাহলে এখনই একটা ব্লগ শুরু করার কথা চিন্তা করুন। ওয়ার্ডপ্রেস আপনাকে আপনার ব্যবসার জন্য ফ্রি ব্লগ খোলার সুযোগ করে দিবে। ডিজিটাল মার্কেটিং এ নেতৃত্ব দেওয়ার জন্য ব্লগ একটি চমৎকার টুলস্। কোয়ালিটি কন্টেন্ট ও সোশাল মিডিয়ায় শক্তিশালী অবস্থান আপনার নেতৃত্বকে আরো সুদৃঢ় করবে।

৬। গুগল ম্যাপের লোকাল লিস্টে কোম্পানীর নাম ওঠানোঃ

যখন আপনি স্মল বিজনেস মার্কেটিং-এ আসবেন তখন গুগল ম্যাপের লোকাল লিস্টে আপনার কোম্পানীর নাম ওঠানোর অনেক গুলো কারণ আছে। গ্রাহক আপনার কোম্পানীর স্থাপিত হওয়াটা দেখতে পাবে এবং এটি গুগল রাঙ্কিং এও ভাল অবস্থানে আসতে সাহায্য করবে। চূড়ান্তভাবে গ্রাহক কোম্পানীর রিভিউ দেখতে পাবে এবং সে তার মতামত প্রকাশ করতে পারবে আর এটি আপনাকে আপনার গ্রাহককে বুঝতে সাহায্য করবে।

৭। গ্রাহকদের জন্য বিভিন্ন ফোরাম খোঁজাঃ

বিভিন্ন ফোরামে নিজের পন্য বা সেবা সম্পর্কে লিখতে হবে। যাতে কেউ খুঁজলে আপনার পন্য বা সেবার সন্ধান পায়।

৮। সম্পূর্ণ ওয়েবে তথ্য শেয়ার করাঃ

আপনি আপনার প্রজেক্টের কাজ শেষ করুন। সুন্দর একটি ছবি তুলুন। ছবিসহ ব্লগে পোস্ট করুন, টুইটারে টুইট করুন এবং ফেসবুক সহ সকল স্যোশাল মিডিয়ায় শেয়ার করুন।

৯। আপনার তথ্যের সময়কাল ব্যবহার করুনঃ

প্রতিটি মানুষ তথ্য অনুসন্ধান করে। হাজার হাজার মানুষ ওয়েবসাইট ভিজিট করে তথ্যের জন্য। তথ্যের সময়কালটা অতিপ্রয়োজনীয় একটি বিষয়।

১০। অনলাইন সেবা চালু করুন, লোকসানকৃত পণ্যের তালিকা করুন এবং পূণরায় বিক্রয় টার্গেট নির্ধারণ করুনঃ

ধরুন Lexity.com থেকে আপনার নির্ধারিত পন্যের প্রয়োজন অনুসারে একটি এ্যাপস্ ক্রয় করলেন। এ্যাপস্ টি অনলাইন সপিং কার্ট ম্যানেজ করবে, গুগলে আপনার পণ্যের তালিকা তৈরি করবে। গ্রাহককে আপনার পন্য খুজে পেতে সাহায্য করবে এবং ফেসবুক লাইক, ফলো ও গুগল + পেতে সাহায্য করবে। যা আপনার পণ্যের রাঙ্কিং এর ক্ষেত্রে অনেক বড় ভুমিকা রাখবে।

১১। ফেসবুক স্পন্সর গল্প ব্যবহার করুনঃ

ফেসবুক পেজ র‌্যাঙ্ক পরিবর্তন না হওয়া পর্যন্ত ১০ ভাগ ফলোয়ার আপনার পোস্ট দেখতে পাবে, স্পন্সর গল্প খুবই গুরুত্বপূর্ণ। বৃহৎ পাঠকবৃন্দ স্পন্সর স্টোরি দেখতে পাবে এবং আপনি যখন রেগুলার পোস্ট করবেন তখন পাঠকদের সম্পৃক্ততা আরো বাড়তে থাকবে। সরাসরি বিক্রয়ের এটা একটা ভাল কৌশল, মুখে মুখে বিজ্ঞাপনের জন্য পাওয়ারফুল টুল। ফেসবুক সঠিকভাবে ব্যবহার করতে পারলে মার্কেটিং এর জন্য এটি একটি ক্ষমতাসম্পন্ন মাধ্যম।

১২। মিডিয়ার মনোযোগ আকর্ষণের জন্য অনলাইন সেবা থাকা উচিৎঃ

HelpaReporterOut.com আপনি এখানে ফ্রি সাইনআপ করতে পারেন। এরা আপনাকে প্রতিটি নতুন স্টোরি ফ্রি প্রচারের সুযোগ করে দেবে।

১৩। পণ্য ব্যবহারের সুবিধাঃ

পণ্যের সুবিধা প্রচার না করে পণ্য ব্যবহারে মানুষ কিভাবে কিছু বেশি সুবিধা পাবে তা সহজ ভাবে তুলে ধরলে বেশি ভালো ফল পাবেন। করন আপনার মতো এমন অনেক ব্যবসায়ি আছেন যারা একই পণ্য নিয়ে ব্যবসা করছেন। তবে আপনার পণ্যটিবা কেনো নেবেন ক্রেতারা? মনে করুন আপনার ব্যবসার পণ্য যদি হয়ে থাকে মেয়েদের পোষাক সে ক্ষেত্রে আপনি যদি বলেন যে “এখানে মেয়েদের সুন্দর সুন্দর পোশাক পাওয়া যায়” এর থেকে যদি এভাবে বলেন যে, ”এখানে মেয়েদের সকল প্রকার ডিজাইনার পোশাক-সেলোয়ার কামিজ, লেহাজ্ঞা, শাড়ি ইত্যাদি সুলভ মূল্যে পাওয়া যায়” এতে করে বেশি ভালো ফল পাবেন ।

১৪। প্রতিদ্বন্দ্বির উপর ধারণাঃ

প্রতিদ্বন্দ্বি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রতি পরিষ্কার ধারণা রাখতে হবে।কারন প্রতিটি ব্যবসায় প্রতিষ্ঠান সমূহ কিছু কৌশল অবলম্বন করে চলে। আর প্রত্যকেই চায় সে এক নম্বরে থাকতে। তাই প্রতিদ্বন্দ্বি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান সমূহের প্রতি ধারনা রাখা উচিৎ। যাতে করে আপনি সঠিক সময়ে সঠিক সিদ্ধান্তটি নিতে পারেন।

১৫। আপনি কেনো সবার থেকে আলাদাঃ

আপনার প্রতিদ্বন্দ্বি ব্যবসা প্রতিষ্ঠান গুলো থেকে আপনি কেনো আলাদা তা বহিঃপ্রকাশ করুন ক্রেতাদের কাছে । এতে করে আপনি আপনার পণ্যর গুনগত মানের কথা বলতে পারেন এবং সহজ লভ্য করতে পারেন।

পরিশেষে এক কথায় বলা যায় যে, মার্কেটিং একটি শক্তিশালী মাধ্যম যাকে সঠিক ভাবে ব্যবহার করতে পারলে আপনি সফলতা অর্জন করতে পারবেন। উপরে উল্লেখিত টিপস আপনার ছোট ব্যবসার জন্য গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করতে পারে।

Content Writer-Afrin Mukti

ফেসবুকের নতুন এলগোরিদম ।

ফেসবুকের নিউজ ফিডে এখন আর কোনো মিডিয়া বা খবরকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে না। এর বদলে বন্ধু ও পরিবারের সদস্যদের দেওয়া পোস্টকে বেশি গুরুত্ব দেওয়া হবে। গতকাল বুধবার ফেসবুক কর্তৃপক্ষ এ ঘোষণা দেয়। ফেসবুকের এই নীতির ফলে যেসব মিডিয়া ফেসবুক থেকে পাঠক তাদের ওয়েবসাইটে টেনে আনে, তাদের ক্ষতি হবে। ফেসবুকের এক বিবৃতিতে জানানো হয়, তাদের নিউজ ফিডের লক্ষ্য হচ্ছে সংগতিপূর্ণ পোস্ট বেশি করে দেখানো। ফেসবুকের নিউজ ফিড হালনাগাদ করার ফলে এখন বন্ধু পরিবারের সদস্যদের দেওয়া পোস্ট বেশি দেখা যাবে। সম্প্রতি ‘ট্রেন্ডিং টপিক’ নিয়ে সমালোচনার মুখে ফেসবুক এই পরিবর্তন আনার ঘোষণা দিল। ট্রেন্ডিং টপিক দেখাতে ফেসবুক কিছু রাজনৈতিক বিবেচনা দেখায় এ ধরনের সমালোচনা তৈরি হলেও ফেসবুক তা অস্বীকার করে। ফেসবুক কর্তৃপক্ষের ভাষ্য, পোস্ট পর্যালোচনা করে দেখা গেছে, সেখানে কোনো পক্ষপাত দেখানো হয় না। প্ল্যাটফর্ম হিসেবে পক্ষপাতহীন থাকতে ফেসবুক সব ধরনের চেষ্টা চালিয়ে যাবে। ফেসবুকের ভাইস প্রেসিডেন্ট অ্যাডাম মোসেরি এক ব্লগ পোস্টে বলেন, তাঁরা অ্যালগারিদম হালনাগাদ করেছেন। এতে ব্যবহারকারীদের প্রয়োজনমতো তথ্য দেখতে পাবেন। বিশ্ববাসীর পড়তে ভালো লাগবে—এমন বিষয় তুলে আনার ব্যবসা তাঁরা করেন না। তাঁরা মানুষের সঙ্গে মানুষের যোগাযোগ করিয়ে দেওয়ার ও ধারণা নিয়ে ব্যবসা করেন। ফেসবুক যদিও মিডিয়া বা খবর সরবরাহকারী হিসেবে নিজেদের পরিচয় করাতে চায় না, এরপরও কিছু সমীক্ষা বলছে, মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রসহ কয়েকটি দেশে খবরের প্রধান উৎস ফেসবুক। মানুষ ফেসবুকে অন্য কারণে এলেও তারা সেখানে খবর পড়ে। পিউ রিসার্চ সেন্টারের এক সমীক্ষায় বলা হয়, ৬৬ শতাংশ ফেসবুক ব্যবহারকারী এই প্ল্যাটফর্ম থেকে কোনো না কোনো খবর পেয়ে থাকে। বৈশ্বিক ট্রেন্ডও একই রকম। অক্সফোর্ড বিশ্ববিদ্যালয়ের রয়টার্স ইনস্টিটিউট ফর দ্য স্টাডি অব জার্নালিজমের ২৬টি দেশ নিয়ে করা এক জরিপে দেখা গেছে, ৫১ শতাংশ অংশগ্রহণকারী বলেন, তাঁরা সামাজিক যোগাযোগের সাইট খবর পড়ার জন্য ব্যবহার করেন। মাত্র ১২ শতাংশ মূল উৎস থেকে খবর পড়েন। এর মধ্যে ফেসবুক সবচেয়ে এগিয়ে।

তথ্যসূত্র: এএফপি।

অনুবাদঃ প্রথম আলো

ফেসবুক পেজ থাকার কিছু সুবিধা জেনে নিন ।

অনেকেই এখন দুটি ফেসবুক অ্যাকাউন্ট ব্যবহার করে থাকেন। একটা ব্যক্তিগত কাজে, অর্থাৎ পরিবার, আত্মীয়স্বজন ও বন্ধু-বান্ধবের জন্য। আরেকটি শুধু কাজের জন্য। অর্থাৎ সহকর্মীদের সঙ্গে যোগাযোগ রক্ষার জন্য।

তবে অনেকেরই বন্ধুসংখ্যা এত বেশি যে অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে কাজ হচ্ছে না। সে কারণেই দরকার পড়ে ফেসবুক পেজের। বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানের যেমন ফেসবুক পেজ আছে, তেমনি অনেক ব্যক্তিও ফেসবুকে পেজ খুলছেন এবং পেজের মাধ্যমে যোগাযোগ রাখছেন বা আপডেট দিচ্ছেন।

তারকাদের ক্ষেত্রেই ফেসবুক পেজ ব্যবহারের নজির বেশি দেখা যায়। প্রতিনিয়ত নিজের কাজের আপডেট দেওয়া, কোথাও গেলে সেই ছবিগুলো পোস্ট করা বা সচেতনতা বৃদ্ধির কাজেও ব্যবহার করা হয় ফেসবুক পেজকে।

আর এখন ব্যবসার কাজে ফেসবুক পেজ ছাড়া গতি নেই। কারণ, যেকোনো ধরনের ব্যবসাই হোক, মানুষের কাছে দ্রুত পৌঁছানোর জন্য সবচেয়ে কার্যকর মাধ্যম ফেসবুক।

সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমবিষয়ক ওয়েবসাইট কনভার্ট উইথ কনটেন্ট জানিয়েছে ফেসবুক পেজ থাকার ১০টি সুবিধার কথা।

১. অগণিত বন্ধু রাখা যাবে

ফেসবুক অ্যাকাউন্টে পাঁচ হাজারের বেশি বন্ধু রাখা যায় না। কিন্তু ফেসবুক পেজের ক্ষেত্রে এ রকম কোনো সীমাবদ্ধতা নেই। আর এ সুবিধার কারণেই ফেসবুকে অ্যাকাউন্টের চেয়ে পেজ রাখাই ভালো। যদি আপনি বেশি মানুষের সঙ্গে যোগাযোগ রাখতে চান, তাহলে ফেসবুক পেজের বিকল্প নেই।

২. ব্যক্তিগত জীবনে প্রভাব পড়বে না

যখন আপনি ফেসবুক পেজ খুলবেন, তখন আপনার মাথায় থাকবে এটা সর্বস্তরের মানুষের কাছে পৌঁছানোর জন্য। সে ক্ষেত্রে আপনি নিশ্চয়ই আপনার কাজ নিয়েই বেশি কথা বলবেন এখানে। ফলে আপনার ব্যক্তিগত জীবনে এর কোনো প্রভাব পড়বে না। আপনি আপনার ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টের প্রাইভেসি বাড়িয়ে নিতে পারেন। ফলে সবাই আপনার পোস্ট দেখতে পারবে না। অন্যদিকে আপনার যেসব বিষয় জানানো প্রয়োজন, সেগুলো জানাতে নিজের পেজটি ব্যবহার করুন।

৩. সার্চে সুবিধা পাবেন

ফেসবুকে বা সার্চ ইঞ্জিনে সার্চ দিলে ফেসবুকের পেজগুলোই আগে আসে এবং এগুলো তাড়াতাড়ি খুঁজে পাওয়া যায়। তাই যদি আপনি চান মানুষ আপনাকে বা আপনার প্রতিষ্ঠানকে সহজে খুঁজে পাবে, তাহলে ফেসবুক পেজে অ্যাকটিভ থাকুন।

৪. ট্যাগিং সুবিধা

ব্যক্তিগত অ্যাকাউন্টে শুধু বন্ধুরাই আপনাকে ট্যাগ করতে পারে। কিন্তু ফেসবুকে পেজ থাকলে যে কেউ ট্যাগ করতে পারবে। এতে আপনি বা আপনার প্রতিষ্ঠান অন্যদের কাছে দ্রুত পরিচিতি পাবে। আপনার দেওয়া পোস্টগুলোও শেয়ার হবে দ্রুত।

৫. মনিটরিং সুবিধা

ফেসবুক পেজের মাধ্যমে মনিটরিং করার সুবিধা পাওয়া যায়। কারণ, ফেসবুক পেজে রয়েছে অ্যানালিটিক্স। আপনার পোস্টগুলো কাদের কাছে যাচ্ছে, প্রতিদিন কত মানুষ আপনার পেজে আসছে, সেটা জানতে পারবেন। লাইক আর ডিজলাইক কত, তার সব হিসাবই আপনি পাবেন পেজের অ্যানালিটিক্স থেকে।

৬. নিউজফিড মার্কেটিং

বিভিন্ন পেজের আপডেট ফলোয়ারদের নিউজফিডে দেখা যায়। আর যদি কোনো পোস্ট বুস্ট করা হয়, তাহলে সেটা ফলোয়ারদের বাইরে অন্যদের নিউজফিডেও চলে যায়। এ ক্ষেত্রে পরিচিতি বাড়ে। বিভিন্ন পণ্য বা সেবা সম্পর্কেও মানুষ জানতে পারে।

৭. বিভিন্ন প্রতিযোগিতার আয়োজন

বিজ্ঞাপন হিসেবে অনেক প্রতিষ্ঠানই অনলাইনে নানা রকম প্রতিযোগিতার আয়োজন করে থাকে। অনেক সময় ভোট দেওয়ার ব্যবস্থাও থাকে। এসব প্রতিযোগিতার জন্য সুন্দরভাবে আয়োজনের জন্য পেজগুলোতে নানা রকম সুবিধা রয়েছে, যা ব্যক্তিগত প্রোফাইলের মাধ্যমে পাওয়া সম্ভব নয়।

৮. বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুবিধা

ফেসবুকে বিভিন্নভাবে বিজ্ঞাপন দেওয়ার সুযোগ রয়েছে। যদিও এ জন্য অর্থ খরচ করতে হয়। তবে ডিজিটাল প্ল্যাটফর্মে ফেসবুকের বিজ্ঞাপনের কার্যকারিতা প্রমাণিত। রয়েছে বিভিন্ন পোস্ট বুস্ট করার সুবিধা। এতে অনেক মানুষের কাছে পৌঁছে যাবে আপনার পোস্টটি। কিন্তু ব্যক্তিগত প্রোফাইলে ফেসবুকের এই সুবিধা ব্যবহার করার সুযোগ নেই।

৯. অ্যাডমিন রাখার সুবিধা

আপনার প্রোফাইলে প্রবেশ করার ইউজার নেম আর পাসওয়ার্ড একটাই। তাই যদি আপনি অন্য কাউকে আপনার প্রোফাইলে ঢুকতে দিতে চান, তাহলে আপনার পাসওয়ার্ড তাকে দিতে হবে। আর পাসওয়ার্ড পেলে আপনার অ্যাকাউন্টের সবকিছুই তার হাতে চলে যাওয়ার আশঙ্কা থাকে। এ ক্ষেত্রে ফেসবুক পেজে রয়েছে অ্যাডমিন সুবিধা। আপনি পছন্দের কাউকে অ্যাডমিন বানিয়ে দিতে পারেন। তারা আপনার হয়ে বিভিন্ন পোস্ট দিতে পারবে। এতে আপনার গোপনীয়তা বজায় থাকবে, কারণ অ্যাডমিনদের ক্ষমতা সীমিত।

১০. চেকইন সুবিধা

নিজের ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের জন্য ফেসবুক পেজ হচ্ছে প্রচারের সবচেয়ে ভালো উপায়। কারণ, পেজ থাকলে বাকিরা সেখানে চেকইন দিতে পারে বা ট্যাগ করতে পারে। এর ফলে অন্যরাও আপনার পেজ সম্পর্কে জানতে পারে।

ফেসবুক মার্কেটিং এ সফল হবেন যেভাবে।

প্রথমেই বলে রাখি  ফেসবুক মার্কেটিং এ সফল হওয়া খুব একটা সহজ না এবং এটি একটি দীর্ঘ মেয়াদের কাজ | আপনি হটাত কোনো সফলতা চাইলে হতাশ হবেন | আর এর কিছু সুনিদিষ্ট ধাপ আছে যা আপনাকে অনুসরণ করতে হবে |
প্রথমেই আপনাকে ব্র্যান্ডিং করতে হবে এটা হতে পারে আপনার কোম্পানির ব্র্যান্ডিং অথবা পার্সোনাল ব্র্যান্ডিং|  ব্র্যান্ডিং কেন করবেন ? অপরিচিত কাওকে মানুষ বিশ্বাস করতে চায় না আর যাকে বিশ্বাস হবে না তার কাছ থেকে আপনি কিছু কিনতেও চাইবেন না অথবা শুনবেন না তার কোনো কথা | তাই সবার কাছে বিশ্বাস অর্জন করতে ব্র্যান্ডিং করা প্রয়োজন | আপনি যখন কোনো সোশ্যাল মিডিয়া তে নিয়মিত একটিভ থাকবেন অথবা আর্টিকেল বা ভিডিওর মাধ্যমে কিছু শেয়ার করবেন তখন সাধারণ মানুষের সাথে আপনার একটা যোগাযোগ তৈরী হয় | এভাবে নিয়মিত যোগাযোগ রাখার মাধ্যমে আপনি সবার বিশ্বাস যোগ্য হয়ে উঠবেন | আপনার ফলোয়ার বাড়তে থাকবে এবং আপনার মার্কেটিংয়ের রাস্তা সহজ হবে | আসুন বিষয় গুলি ধাপে ধাপে আলোচনা করা যাক

প্রথমেই আপনাকে তৈরী করতে হবে একটি ভালো ফেইসবুক প্রোফাইল | কোনো আলতু ফালতু ছবি না দিয়ে নিজের হাস্যজ্জল একটি ছবি দিন এতে সবার কাছে গ্রহণ যোগ্যতা বাড়বে | যে যে ইনফরমেশন দেবেন তা সঠিক হতে হবে এবং সম্ভব্য সকল ইনফরমেশন দেয়ার চেষ্টা করুন মনে রাখবেন ফেক একাউন্ট এর কানা কড়ি মূল্য নাই | প্রোফাইল এবং আপনার ফেইসবুক টি হতে হবে সাজানো গোছানো যেমন কভার ফটো ও প্রোফাইল পিকচার প্রফেশনাল হতে হবে | চেষ্টা করবেন নিজের অনন্যতা প্রকাশ করতে যাতে সকলের মাঝে আপনাকে আলাদা করা যায় | আর গতানুগতিক এর মাঝে মিশে গেলে আপনার কোনো দাম নাই এবং আপনার কথা কেউ শুনবে না |

ফ্রেন্ড তৈরী করার ব্যাপারে সতর্ক হন | দুইটা খারাপ দিক তৈরী হতে পারে , প্রথমত দেখা গেলো যাদের অ্যাড করলেন তারা আপনার চাইতেও বড় মার্কেটার এবং আপনার উপর মার্কেটিং করে বেড়িয়ে গেলো আর একটা হতে পারে ঝিমানো অডিয়েন্স আপনি পোস্ট করেই গেলেন কিন্তু অডিয়েন্স এর ঘুম ভাঙ্গতে পারলেন না | তাই একটিভ মেম্বার যোগার করতে হবে এটা বড় একটা চ্যালেঞ্জ | সময় নিয়ে কাজটি করতে হবে যে কাওকে ফ্রেন্ড বানানো যাবে না | আর এমন কিছু করার চেষ্টা করুন যাতে আপনাকে সবাই ফ্রেন্ড রিকোয়েস্ট পােপার।

প্রোফাইল ও ফ্রেন্ড তৈরী করার পর পোস্ট এবং স্টেটাস এর কথা চলে আসে | নয়মিত ভালো পোস্ট দিন এবং আপনার অডিয়েন্স কে প্রভাবিত করার চেষ্টা করুন | ফ্রি কিছু দেবার চেষ্টা রাখুন যেমন টিপস অথবা ডাউনলোড লিংক | আপনি যে বিষয়ে দক্ষ সেই বিষয়ে আর্টিকেল বা তথ্য দিন এতে করে আপনার আলাদা একটা প্রভাব তৈরী হবে | আপনি যে বিষয়ে মার্কেটিং করতে চান তার উপর পোস্ট দিন তার ভালো মন্দ নিয়ে আলোচনা করুন | শুরুতে বিক্রির অফার দেবেননা এতে খারাপ প্রভাব তৈরী হবে | এমন একটা অবস্থান সৃষ্টি করুন যে আপনি ঐ বিষয়টি ভালো ভাবে জানেন এবং কেউ প্রয়োজন হলে আপনার সাহায্য নিতে পারবে |

মার্কেট এবং মার্কেটিং এমন একটা জিনিস যে এখানে আপনাকে নিয়মিত উপস্থিত থাকতে হবে যদি না থাকেন মার্কেট অবশ্যই থাকবে তবে অন্যের দখলে চলে যাবে | সবার সাথে যোগাযোগ রাখা এবং উদ্দীপনা তৈরী করা খুবই জরুরি | সকলের প্রশ্নের জবাব দিন এবং কমেন্ট ভিত্তিক আলোচনায় অংশ নিন | নিয়মিত ভালো ভালো কনটেন্ট যোগ করার চেষ্টা করুন | প্রগ্রেস ধরে রাখুন |

উপরের কাজ গুলি হলে আপনার একটা গ্রুপ খুলে ফেলুন | গ্রুপ একটা কাজের জিনিস একবার কষ্ট করে চালু করলে পরে নিজেই চলতে থাকবে আপনার কাজ হবে তেল সরবরাহ করা |  গ্রুপ এ ইন্টারঅ্যাকশন ভালো হয় এবং গ্রুপ নিজেই একসময় আপনার ভালো প্রচার মাধ্যম হয়ে ওঠে | এক কথায় কোনো টার্গেট অডিয়েন্স কে কোনো একটি নিদিষ্ট বিষয়ে ইনভলভমেন্ট করার জন্য গ্রুপ এর কোনো বিকল্প নাই | এরপর আসে পেজ এর কথা উপরের কাজ গুলি সফল ভাবে করতে পারলে তৈরী করে ফেলুন আপনার ব্র্যান্ড এর সাজানো গুছানো একটি পেজ এবং ফলোয়ার | মনে রাখবেন ফ্রেন্ড এর চাইতে ফলোয়ার বেশি কার্যকর |

প্রচারণা চালানোর ক্ষেত্রে আপনাকে অবশ্যই কৌসলী হতে হবে নাহলে সব গুড়ে বালি | আগেই বলেছি সরাসরি কোনো অফার দেয়া খুব একটা সুফল বয়ে আনবে না | সব চাইতে ভালো স্ট্রাটেজি হলো এমন ভাবে কাস্টমার কে প্রভাবিত করুন যেন অফারটি তাদের দিক থেকে আসে | এছাড়া কোনো বিষয়ে লেখা লেখি করে তাদের ঐ বিষয়ক কোনো সাইট এ যাবার পরামর্শ দিতে পারেন | ফিড ব্যাক এর মাধ্যমে অডিয়েন্স এর মন বুঝে আপনাকে অগ্রসর হতে হবে | যারা এই কাজে সফল হয়েছেন তাদের কর্ম পন্থা ফলো করতে পারেন |

সব শেষে বলি এক একজনের স্ট্রাটেজি একেক রকম হবে | আপনার দক্ষতা এবং আইডিয়া আপনাকে সবার আগে রাখতে পারে | সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং বিশাল একটি রাজ্য এর গভীরে প্রচারণার কৌসল এক একজনের একেক রকম | আপনার কার্যকর কৌসল নির্ধারণ করতে আপনাকে আরো পড়া শোনা করতে হবে | তাই এখানেই থেমে থাকবেন না কাজ শুরু করে দিন আজ থেকেই |

৬ টি গুরুত্বপূর্ণ উপায়ে আরো আকর্ষনীয় করে তুলুন সংবাদ / লেখার শিরোনাম।

যে কোন লেখা কেউ পড়বে কি পড়বে না তা অনেকাংশেই নির্ভর করে সেই লেখার শিরোনামের উপরে। আপনি অনেক খাটাখাটনি করে একটি মানসম্পন্ন ব্লগ লিখলেন, কিন্তু সেটা অনেকেই না পড়ে চলে গেল, সম্ভবত এর বড় একটা কারন হল যথেষ্ট আকর্ষনীয় শিরোনামের অভাব। আবার আপনার লেখার শিরোনামটি যদি বেশ আকর্ষনীয় হয় তাহলে অনেক বেশি মানুষ লেখাটি পরতে আকৃষ্ট হবে।

সাধারন কিছু কৌশল ব্যবহার করে আপনি আপনার লেখার শিরোনামকে করে তুলতে পারেন আরো আকর্ষনীয়। চলুন তাহলে দেরী না করে জেনে নেই কি সেই জাদুকরী উপায়।

#১ সংখা দিয়ে শুরু করুনঃ

সংখা দিয়ে শুরু করা শিরোনামগুলো তুলনামূলকভাবে বেশি মানুষকে আকৃষ্ট করে। মুলত এই ব্যাস্ত দুনিয়ায় কোন কিছু পড়তে গেলেও আমরা আগে চিন্তা করে নেই এইটা আমার কি কাজে লাগবে, আর সংখ্যা-তালিকা ভিত্তিক লেখাগুলো থেকে স্বল্প সময়ে অনেক কিছু শিখা বা জানা যায়। তাই এই ধরনের লেখাগুলো মানুষ একটু বেশি আগ্রহ নিয়ে পড়ে।

#২ মূল বিষয়টা তুলে ধরুন।

কেন একজন এই লেখাটা পড়বে?

এই লেখা পড়লে তার কি লাভ হবে?

এই বিষয়গুলো স্বল্প কথায় সুন্দরভাবে আপনার শিরোনামে বর্ণনা করুন।

উদাহরন্স্বরুপ, “How to” অথবা “কিভাবে” দিয়ে শুরু করা শিরোনামগুলো প্রায় সবসময়ই অনেক বেশি কাজের হয়।

#৩ প্রশ্ন করুন।

গবেষনাধর্মী অথবা বিশ্লেষন্ধর্মী লেখার ক্ষেত্রে প্রশ্নবাচক শিরোনাম খুব ভালো ফল দেয়। তবে এক্ষেত্রে একটা বিষয় খেয়াল রাখবেন, প্রশ্ন যেন এমন হয় যাতে আপনি পাঠককে দিয়ে আপনার কাঙ্ক্ষিত উত্তরটি বলিয়ে নিতে পারেন।

যেমন, ইকমার্স ব্যবসায়ের জন্য ডিজিটাল মার্কেটিং, ভালো না খারাপ?

#৪ নেতিবাচক শিরোনাম

মানব মনের একটা গুরুত্বপূর্ন দিক হল, যেটা তাকে নিষেধ করা হয় সে সেটার প্রতি আরো বেশি আকৃষ্ট হয়। তাই নেতিবাচক শিরোনাম গুলো মানুষ খুব দ্রুত আকৃষ্ট করে। কিন্তু এই নেতিবাচকতাকে ব্যাবহার করতে হবে খুবই সতর্কতার সাথে, যাতে তা আপনার জন্য হীতে বিপরীত না হয়ে যায়।

#৫ বিষেশনের সঠিক ব্যাবহার।

“কিভাবে ভাত রান্না করবেন?”

“কিভাবে ঝরঝরে ভাত রান্না করবেন?”

যাদের ভাত রান্না করার নুন্যতম অভিজ্ঞ্বতা আছে তারা কোন শিরোনামের লেখাটা আগে পড়বেন, নিশ্চয়ই দ্বিতীয়টা, তাই না?

তাই আপনার শিরোনামে ভেবে চিনতে সঠিক বিষেশন ব্যাবহার করুন।

#৬ সঠিক বিরামচিনহ এর ব্যাবহার।

শুধুমাত্র একটি সেমিকোলন, কমা, কোলন অথবা হাইপেন শব্দের অর্থ অনেকখানি বদলে দেয়। তবে শিরোনাম এর ক্ষেত্রে অন্য আইকন সবচেয়ে গুরুত্ব পূর্ন।

সাম্প্রতিক এক গবেষনায় দেখা যায়, ২০% মানুষ পুরো লেখা পরে শুধুমাত্র শিরোনামের লেখা পড়ে আকৃষ্ট হয়ে।একটি সঠিক শিরোনাম এর উপর নির্ভর করে লেখাটি মানুষ পড়বে কি না?

তাই, বর্ণিত কৌশেন তা লগুলো নির্ধিধায় ব্যাবহার করুন এবং আপনি আর কি কি কৌশল ব্যাবহার করেন তা জানাতে ভুলবেন না কিন্তু।

ব্যাবসা হোক বাধাহীন!

১। আপনার ব্যাবসা প্রতিষ্ঠান খোলা রাখুন দিনে ২৪ ঘণ্টা সপ্তাহে ৭ দিন বছরে ৩৬৫ দিন এমনকি যে কোন অবরোধেও।
২। ক্রেতাদের খুব সহজে আপনার পণ্য ক্রয়ের সুযোগ করে দিন দেশ বিদেশের যে কোন জায়গা থেকে।
৩। ক্রেতাদের আপনার পণ্য ক্রয় করতে পারবে ঘরে বসেই Computer, Mobile বা SMS এর মাধ্যমে।
৪। ক্রেতাদের কাছে আজই আপনার Website টি পৌছে দিয়ে আপনার পণ্য সমুহ পৌছে দিন তাদের হাতের নাগালে।
৫। বিক্রয়ের জন্য আপলোড করুন যে কোন ধরনের পণ্য যা আপনি নিজেই সাপ্লাই দিতে পারবেন।
৬। খুব সহজেই অতিদ্রুত আপনার ব্যাবসার ব্যাপক প্রসার ঘটান বিভিন্ন মিডিয়ার প্রচারের মাধ্যমে।
৭। আগে পণ্যের মূল্য বুঝে নিন ও পরে পৌছে দিন ক্রেতার ঠিকানায়।
৮। আধুনিক পদ্ধতি গ্রহন করে বেরিয়ে আসুন সনাতন পদ্ধতি থেকে।
৯। নিজস্ব Web Admin এর মাধ্যমে আপনি নিজেই পরিচালনা করুন আপনার E-Commerce সাইট টি।

ব্যাবসায়ে সফলতার পাচ স্বর্ণ-সূত্র।

বড় বড় কোম্পানি বা ব্রান্ডগুলোর বিষয়ই আলাদা। তাদের লোগো দেখার সাথে সাথেই যে কেউ চিনতে পারে, তাদের পন্য, প্যাকেজিং, উপস্থাপন সবকিছুই আলাদাভাবে পরিচিতি পায়, তাদের রয়েছে বিশাল ব্রান্ড ম্যানেজমেন্ট টীম, এইচ আর বিভাগ, রিসার্চ … আরো কত কি ।
কখনো কখনো ব্যাবসায়ের মালিক নিজেই তার ব্যাবসায়ের উপদেষ্টা হিসবে কাজ করেন (স্টিভ জবসের কথা চিন্তা করুন) কিন্তু অধিকাংশ ক্ষেত্রেই তা হয় না। ব্রান্ডগুলো টাকার বিনিময়ে জ্ঞ্বানী এবং পেশাজিবিদেরকে তার ব্যাবসায়ের উপদেষ্টা হিসেবে নিয়োগ দেন।
কিন্তু ক্ষুদ্র বা মাঝারী উদ্যোক্তাদের পক্ষে এই বিশাল অংকের অর্থ খরচ করা শুধু আসাধ্যই না অবাস্তব ও বটে। কিন্তু তাই বলে তো আর বসে থাকা চলে না, তাই না? আপনার যদি নিজের পন্য বা ব্রান্ডের জন্য টাকা খরচ করে উপদেষ্টা নিয়োগ করার সামর্থ বা সুযোগ না থাকে তাহলে নিজেই নিজের কোম্পানীর উপদেষ্টা হয়ে যাওয়াটা মনে হয় সবচেয়ে বুদ্ধিমানের কাজ।
এখন আপনার মনে প্রথম যেই প্রশ্নটা উকি দিচ্ছে তা হল, “এও কি সম্ভব?”
আমি বলব অবশ্যই সম্ভব, হাসিন হায়দার ভাইয়ের কোম্পানী থিম-বাকেটের নাম হয়ত অনেকেই জানেন না, কিন্তু বাংলাদেশের প্রোগ্রামিং জগতে হাসিন হায়দার ভাইয়ের নাম শোনেননি এমন মানুষ খুব কমই আছে। একই কথা প্রযোজ্য ব্রানোর রাজিব রয় ভাই সম্পর্কে। এটা শুধু একটা উদাহরন মাত্র, একটু খুজে দেখুন এমন অনেক উদাহরন আপনার চারপাশেই আছে।
ঠিক এর পর পরেই দ্বিতীয় যেই প্রশ্নটি ইতিমধ্যে আপনাকে জ্বালাচ্ছে সেটি হল, “কি ভাবে সম্ভব?”
ভাল কথা, এই বিষয়টি আসলেই অনেক ব্যাপক একটি বিষয় এবং এক কথা তার উত্তর দেয়া আসলেই কঠিন। তবে নিজেই নিজের কোম্পানী / ব্রান্ডের উপদেষ্টা হয়ে উঠার জন্য কিছু সাধারন কিন্তু কার্যকরি উপায় আজকে আলোচনা করবোঃ
০১) সামনে থেকে নেতৃত্ব দিনঃ
ক্ষুদ্র / মাঝারী ব্যাবসায়ের মালিকেরা অধিকাংশ সময়ে আড়ালে থাকেন। তারা অনেকেই সগর্বে প্রচার করেন না যে আমি এই ব্যাবসায়ের মালিক। এবং বলা হয়ে থাকে অধিকাংশ ব্যাবসায়ের ব্যার্থতার অন্যতম কারনের মধ্যে এটি একটি। আপনার একটা ইকমার্স ব্যাবসায় আছে অথবা মুদির দোকান কিংবা ফুডকার্ট জানিয়ে দিন না সবাইকে যে, এটি আপনার ব্যাবসায় – আপনিই এই ব্যবসায়ের উদ্যোক্তা। মনে রাখবেন দিনশেষে মানুষই আসল, লোগো বা প্রতিষ্ঠান নয়। আর সবচেয়ে বড় কথা, আপনার প্রতিষ্ঠানে সুনাম / দুর্নাম সবই কিন্তু আপনাকে ঘিরেই আবর্তিত হয়।
তার চেয়ে বড় কথা মালিক যদি প্রত্যক্ষ ভাবে জড়িত না থাকে এবং নিজের ব্যাবসায় নিয়ে গর্বিত না হয় তাহলে তার কর্মকর্তা / কর্মচারীরা কাজে উৎসাহ হারিয়ে ফেলে, প্রাতিষ্ঠানিক কাঠামো খুব দ্রুত ভেঙ্গে পড়ে। যা আসলে বাজে সেবা, মানহীন পন্য আর খুব অসন্তুষ্ট ক্রেতার জন্ম দেয়।
যদিও ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠানের প্রাতিষ্ঠানিকীকরন (অর্থাৎ মালিকের শারীরিক অনুপস্থিতিতেও ব্যাবসায় নিজের গতিতে চলবে ) সব ব্যাবসায়ীরই আরাধ্য, তবুও আপনি যখন আপনার ব্রাণ্ড ডেভেলপমেন্ট স্তরে কাজ করবেন তখন অবশ্যই আপনাকে শারীরিক উপস্থিতি নিশ্চিত করতে হবে। সেই সাথে আপনার ক্রেতা / ভোক্তাদের কেও জানাতে হবে যে প্রতিটি পর্যায়ে আওনার নিয়ন্ত্রন আছে এবং যে কোন সুবিধা অসুবিধায় তারা আপনাকে পাশে পাবে।
ব্যাবসায় জগতে একটা কথা আছে,
মালিক যেখানে যায়,
গতি ও সেবা সেখানে ধায়।
চেষ্টা করবেন কথাটা সবসময় মনে রাখতে।
০২) আপনার থাকা আর না থাকার মাঝে সমন্বয় তৈরী করুন।
এবার একটু উলটা দিক থেকে বিশ্লেষন করি। ধরুন আপনার ব্যাবসায়কে আপনি একদম সামনে থেকে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, এবং তা বেশ ভালোই চলছে। কিন্তু নিজেকে কি একবার প্রশ্ন করে দেখেছেন, আপনি যখন থাকেন না তখন কি হয়? ক্রেতারা কি ঠিক মত সেবা পায়? কর্মীরা কি ঠিক মত কাজ করে? কোন কারনে আপনি যদি বেশ কিছুদিন থাকতে না পারেন তাহলে আপনার ব্যাবসা কি ঠিকমত চলবে?
অনেক সময় এমন হয় যে, কোন দোকানের মালিক, যিনি সব-সময় দোকানে থাকেন তার অনুপস্থিতিতে ক্রেতারা ফিরে যান। কার্যত বেচাকেনাই লাটে ওঠে। এটা শুধু দোকানের বেলাতেই নয়, যে কোন ব্যাবসায়ের বেলাতেই সত্য।
দিনশেষে আসলে সব কিছুই “থাকা না থাকা” এর ভারসাম্যের উপর নির্ভরশীল।
সবচেয়ে বড় কথা হল ব্যাবসায়কে একটা নির্ধারিত ছকে নিয়ে আসা, যাতে করে প্রত্যকেই তার দায়িত্ব, প্রাপ্য ও জবাবদিহিতা সম্পর্কে নিশ্চিত থাকে। তাদেরকে একটা নিয়মে অভ্যস্ত করে তোলা, যাতে করে আপনার ক্রেতা / ভোক্তারা নিশ্চিত হয় যে, আপনি থাকুন আর নাই থাকুন তার একই মান ও সেবা পাবে।
এবং মজার বিষয় হল, এই সব কিছুর পরেও ব্যবসায়ে আপনার শারীরিক উপস্থিতির কোন বিকল্প নেই। তাই যখনই সময় পান, কিছু না কিছু কাজে অংশ নিন। তা হোক বিষেশ ক্রেতা / ভোক্তাদের শুভেচ্ছা জানানো অথবা কর্মীদের কাজের দেখভাল করা।
০৩) উপদেষ্টা হোন, শুধুমাত্র বিক্রেতা নয়।
তুখোড় বিক্রেতা হলেই যে আপনি ব্যাবসায়ে সফলতা অর্জন করবেন বা আপনার কোম্পানীর ব্রান্ড-ভ্যালু বাড়বে বিষয়টা কিন্তু এমন নয়।
ব্যাবসায়ী হিসেবে আপনাকে হতে হবে তুখোড় বিক্রেতা, কড়া সমালোচক, সেরা কৌতুকাভিনেতা, নিজের ব্যাবসায় প্রতিষ্ঠানের সবচেয়ে বড় ভক্ত ও একনিষ্ঠ সমর্থক এবং অবশ্যই বিজ্ঞ্ব পরামর্শক। কিন্তু নিজেকে কখনই শুধু-মাত্র একজন বিক্রয় কর্মী ভাববেন না। নিজেকে সবসময়েই আপনার ব্যাবসায়ের একজন পরামর্শক ভাবুন। আপনার প্রতিষ্ঠানে আপনি কি করতে চান, আপনার ব্যাবসায়িক দর্শন কি, কিভাবে আপনি আপনার ব্যাবসা পরিচালনা করতে চান, কেন আপনিই সেরা … ইত্যাদি বিষয়ে আপনার কর্মী আর ক্রেতা / ভোক্তা উভয়কেই ক্রমাগত জানাতে থাকুন।
০৪) “এই দামে এর চেয়ে ভালো পণ্য/সেবা সম্ভব নয়” এই বিষয়টি নিশ্চিত করুন।
সত্যি কথা বলতে দিনশেষে আপনার পণ্য / সেবার মানই ঠিক করে দেয় আপনার ব্রান্ড নন্দিত হবে নাকি নিন্দিত হবে। আপনার কর্মীদের (নিজেকে সহ) এমন ভাবে প্রশিক্ষন দিন যাতে সেরা মান নিশ্চিত করার জন্য তারা নিজেদের সামর্থের শেষ বিন্দু টুকুও ঢেলে দেয়। আপনার ব্যাবসা তখনই ভাল করবে যখন আপনার ক্রেতা / ভোক্তারা আপনার স্থায়ী ক্রেতায় পরিনত হবে। আর সেটা তখনই সম্ভব যখন আপনার পণ্য / সেবার মান তাদেরকে সন্তুষ্ট করবে। আর না হলে সবচেয়ে দক্ষ ব্যাবসায়ীও ব্যর্থ হতে বাধ্য।
৫। কোনটা আগেঃ টাকা না সেবা?
ডিম আগে না মুরগি আগে এই নিয়ে সেই আদি কাল থেকে বিতর্ক চলে আসলেও ব্যাবসায়ে কিন্তু সবময়েই সেবা আগে। সেই সেবার প্রতিদান হিসেবে টাকা বা লাভ পকেটে আসে। আসলে আপনি যদি সেবায় এবং ক্রেতা সন্তুষ্টিতে সবার চেয়ে এগিয়ে থাকেন তাহলে যৌক্তিকভাবেই আপনার বিক্রি বাড়তে থাকবে এবং সেই অনুপাতে লাভও বাড়তে থাকবে। সাধারনভাবে আমরা দেখি যে ব্যাবসায় শুরু করার আগেই আমরা লাভ কত আসবে, কতদিনে আসবে সেই হিসাব নিকাশ শুরু করে দেই। আসলে মূল কাজটা কিন্তু পন্য / সেবার ক্ষেত্রে সেরা মানটি নিশ্চিত করা, লাভের হিসাব করা নয়।

যে ১৬টি কি-বোর্ড শর্টকাট অবশ্যই জানা উচিত।

আমরা সাধারণত কি-বোর্ড দিয়ে লিখি। তবে অনেক কাজে ব্যবহার করি মাউস। কিন্তু সময় বাঁচাতে কি-বোর্ড শর্টকাটের বিকল্প নেই। আমরা জানি না। তাই ব্যবহার করি না। আসুন জেনে নিই কিছু কি-বোর্ড শর্টকাট।
১) Ctrl+F : ডকুমেন্ট বা ওয়েব পেজে কোনো কিছু খুঁজতে ব্যবহার করতে পারেন এ শর্টকাট। দেখুন না কত সহজে খুঁজে বের করা যায় প্রয়োজনীয় তথ্য। এক সমীক্ষায় দেখা গেছে ৯০ শতাংশ ব্যববহারকারীই এ শর্টকাট কখনো ব্যবহার করেননি। আপনিও কি তাদের দলে?
২) Ctrl+Tab : ব্রাউজারে ওপেন করা ট্যাবগুলোতে একের পর এক যেতে ব্যবহার করতে পারেন এ শর্টকাট।
৩) Ctrl+Shift+Tab : ব্রাউজারে ওপেন করা ট্যাবগুলো বিপরীতমুখী ভ্রমণে ব্যবহার করতে পারেন এই শর্টকাট।
৪) Alt+Tab : ব্রাউজার থেকে ট্যাবসম্পন্ন কোনো অ্যাপ্লিকেশনে যেতে অথবা পুনরায় ব্রাউজারে যেতে ব্যবহৃত হয় এই শর্টকাট।
৫) Ctrl+T : ব্রাউজারের একই উইন্ডোতে নতুন ট্যাব খুলতে ব্যবহার করা যাবে এ শর্টকাট।
৬) Ctrl+N : ব্রাউজারের আলাদা উইন্ডো খুলতে এ শর্টকাট ব্যবহৃত হয়।
৭) Ctrl+L : চলমান ট্যাবের অ্যাড্রেসবারে লিখতে এ শর্টকাটটি ব্যবহার করতে পারেন।
৮) Ctrl+W : চলমান ট্যাবটি বন্ধ করতে ব্যবহার করতে পারেন শর্টকাটটি।
৯) Ctrl+C : কোনো কিছু কপি করতে ব্যবহার করুন শর্টকাটটি।
১০) Ctrl+X : কোনো কিছু কাট করতে ব্যবহার করুন শর্টকাটটি।
১১) Ctrl+V : কপি বা কাটের পর পেস্ট করতে ব্যবহৃত হয় এ শর্টকাট।
১২) Ctrl+Z : সর্বশেষ পরিবর্তনটি আনডু করতে চাইলে ব্যবহার করতে পারে এই শর্টকাটটি।
১৩) Ctrl+A : ডকুমেন্ট বা ওয়েবপেজের সব কিছু সেলেক্ট করতে ব্যবহৃত হয় এ শর্টকাট।
১৪) Ctrl+S : কোনো কিছু সেভ করতে ব্যবহার করুন এ শর্টকাট।
১৫) Shift+Ctrl+Right : কোনো শব্দের প্রথমে কার্সর রেখে এ শর্টকাট ব্যবহার করে সংশ্লিষ্ট শব্দটি সেলেক্ট করা যায়।
১৬) Ctrl+Right : পরবর্তী শব্দের শুরুতে কার্সর নিতে এ শর্টকাট ব্যবহার করা যায়।
এগুলো ছাড়া আরো অনেক কিবোর্ড শর্টকাট আছে। তাছাড়া সফটওয়ার ব্যবহার করে আপনি নিজেও বানিয়ে নিতে পারবেন আরো শর্টকাট। তাহলে শর্টকাট ব্যবহার করুন। আর সময় বাঁচিয়ে করুন আরো অনেক কাজ।

২০১৬ সালের ডিজিটাল মার্কেটিং-এর জন্য কিছু টিপস ।

যে কোন ব্যবসার ক্ষেত্রেই ডিজিটাল মার্কেটিং এখন অনেক গুরুত্বপূর্ণ।অনেক ধরণের ব্যবসা আছে যে গুলো গড়েই উঠেছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিংকে কেন্দ্র করে।খুব সহজে ক্রেতার কাছে পৌঁছানো যায় বলে, অনলাইন ব্যবসায়ীদের জন্য তো অবশ্যই, এখন অফলাইন ব্যবসায়ীরাও ঝুঁকে পড়েছে সোশ্যাল মিডিয়া মার্কেটিং-এ।
বিটুবি এবং বিটুসি মার্কেটার্সরা এখন ক্রেতাদের কাছে কিভাবে নিজেদের পণ্য নিয়ে পৌঁছাবে সেটা একটা চিন্তার বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। তাই তারা মোবাইলে ইন্টারনেট ব্যবহারকারী ক্রেতাদের আরও সান্নিধ্যে আসার জন্য মোবাইল উপযোগী ওয়েবসাইটের কথা চিন্তা করছে।
পরিবর্তনশীল এই ডিজিটাল মিডিয়া মার্কেটিংকে সফল করতে কিছু টিপস দেখে নিতে পারেন একনজর,
১। সমস্যা খুঁজে বের করতে হবে এবং কাজের লক্ষ্য স্থির করতে হবে
একটি প্রতিষ্ঠান মার্কেটিং এর সময় কি কি বিষয় নিয়ে কাজ করতে চায় এবং কি কি সমস্যা ধরা পড়ছে তা নিয়ে আগে থেকেই পরিকল্পনা করতে হবে। প্রত্যেকটি মার্কেটিং প্রক্রিয়ায় কিভাবে সফলতা আসবে আগে থেকেই সেটা ধারণা করে নিতে হবে।
২। প্রতিষ্ঠানের নিজস্ব ব্লগ/সাইট থাকা প্রয়োজন
ডিজিটাল মার্কেটিং এর ক্ষেত্রে ব্লগ বা সাইট মেইনটেইন করা জরুরী। বর্তমানে ব্লগের ব্যবহার এখনও অনেক কম। তাই সেলস ম্যানের মত ক্রেতাদের দরজায় দরজায় না যেয়ে ডিজিটাল মার্কেটিং এর জন্য ব্লগের ব্যবহার করা যেতে পারে। আলোচিত ব্লগারদের দিয়ে কাজ করালেও অনেক সময় সফল হওয়া যায়।
৩। নজর দেয়া যেতে পারে ভিডিও মার্কেটিং-এর দিকে
বাংলাদেশে এখন ইন্টারনেট স্পিডও বেড়ে গেছে। সেই সাথে হাতের কাছের ডিভাইস থেকে ভিডিও দেখার সুযোগও বেড়ে যাচ্ছে। তাই ইউটিউব বা ফেসবুকে ভিডিও শেয়ার করা হলে সেটি মানুষের কাছে আরও দ্রুত পৌঁছে যাওয়ার সুযোগ থাকছে। প্রতিদিন ইউটিউবে ৪ বিলিয়ন ভিডিও দেখা হয় ইউটিউবে। তাই নতুন নতুন ক্রেতাদের আকৃষ্ট করতে ভিডিও মার্কেটিং এর জুড়ি নেই। কারণ ভিডিও যদি সুন্দর হয় সেটি অনেকেই শেয়ার করবে। এতে করে আরও বেশী মানুষের কাছে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নামকে পরিচিত করার সুযোগ থাকছে।
৪।ডিজিটাল মিডিয়া মার্কেটিং-এ সঠিক ব্যবস্থাপনা
প্রত্যেকদিন নির্দিষ্ট সময় পর পর মাল্টিমিডিয়া কন্টেন্ট গুলোকে আপডেট করা উচিৎ। সোশ্যাল মিডিয়া কন্টেন্ট পোস্ট করা ক্ষেত্রে অটোমেটিক প্রক্রিয়া ব্যবহার করা উচিৎ।
৫।মার্কেটিং এর বিষয় খেয়াল রাখতে হবে
একেকটি পণ্যের মার্কেটিং করার প্রক্রিয়া একেক রকম হওয়া প্রয়োজন। অনেক সময় দেখা যায় কোন একটি বিজ্ঞাপনের ছবিতে মানুষের মুখ ব্যবহার করা হলে আরও বেশী আকর্ষণীয় হওয়ার উপায় থাকে।
৬।এসইও নিয়ে কাজ করা উচিৎ
অনলাইন মার্কেটিং এর জন্য এসইও ঠিক করা খুব প্রয়োজনীয়ও একটা বিষয়। গুগলের নতুন এই নিয়মের কারণে সবাই চায় অনলাইন সার্চে সবচেয়ে আগে নিজেদের প্রতিষ্ঠানের নাম এবং পণ্য যেন সবার আগে আসে।তাই এদিকটি ভাল ভাবে খেয়াল করতে হবে।
৭। সোশ্যাল মিডিয়ার দিকে নজর দিতে হবে
প্রতিষ্ঠান এবং পণ্যের বিজ্ঞাপনের জন্য সোশ্যাল মিডিয়া অনেক বড় ভূমিকা রাখে। টুইটার, ফেসবুকের মাধ্যমে খুব দ্রুত ক্রেতাদের কাছে পরিচিতি পাওয়া যায়। সেদিক থেকে বিটুবি ব্যবসায়ীরা লিংকড ইন এবং বিটুসি কোম্পানি গুলো ফেসবুক, টুইটারে তাদের প্রচারণা চালাতে পারে।
সবচেয়ে বড় কথা হল, যাই করা হক না কেন কন্টেন্টের মানের দিকে খেয়াল রাখতে হবে।